পুলিশের গাড়ীর ধাওয়া; বাসের চাপায় সিএনজি চালক নিহত, আহত ৩

সিলেট বিডি নিউজ
প্রকাশিত ২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০২১, মঙ্গলবার
পুলিশের গাড়ীর ধাওয়া; বাসের চাপায় সিএনজি চালক নিহত, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা সিলেট মহাসড়কের বাগান বাড়ি নামক স্থানে মামুন পরিবহনের একটি বাস চাপায় সিএনজি অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৩শে ফেব্রুযারি মঙ্গলবার সকাল ১১টারদিকে উপজেলার বাগান বাড়ি নামক স্থানে।

জানা যায়, বাহুবল উপজেলার ঢাকা সিলেট মহাসড়ক দিয়ে অবৈধ মাটি বোঝাই ট্রাক্টর অবাধে চলাচল করছে। এসময় সিএনজি অটোরিক্সা গতিরোধ করে মাটি বোঝাই ট্রাক্টর। চালক তোফায়েল আহমেদ(২২)যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলো মহাসড়ক দিয়ে। এমতাবস্থায় মামুন পরিবহনের বাসটি সজোরে সিএনজিকে চাপা দিলে সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে উল্টে খাদে পড়ে যায় এসময় চালক তোফায়েল আহমেদ গাড়ির নিচে চাপা পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সিএনজিতে থাকা ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে বাহুবল হাসপাতালে নিয়ে আসলে আহতদের অবস্থা আশংকাজনক হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

ঘটনায় উত্তেজিত জনতা প্রায় ৩ ঘন্টা ঢাকা সিলেট মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্তনা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। নিহত সিএনজি চালকের নাম তোফায়েল আহমেদ(২২)। সে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশী গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টারদিকে নিহত তোফায়েল আহমেদ যাত্রীসহ সিএনজি অটোরিক্সা (নং- হবি-থ-১১-৭৪৪৮) নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে বাহুবল বাজারে আসার পথে উপজেলা সদর সংলগ্ন বাগান বাড়ি পয়েন্টে দ্রুতগতিতে আসা মামুন পরিবহনের একটি বাস সিএনজিকে চাপা দিয়ে অতিক্রম করে চলে যায়।

এ সময় সিএনজি অটোরিকশাটি ধুমড়ে মুচড়ে উল্টে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই চালক তোফায়েল মারা যায়। গুরুতর আহত হয় অটোরিকশার ৩ যাত্রী,তারা হলেন দৌলতপুর গ্রামের আব্দুল হেকিমের পুত্র আজগর আলী (৬০) একই গ্রামের এনামুল হকের স্ত্রী মাসুদা আক্তার (৩৫) এবং হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মী মুসলিম উদ্দিন (৪০)। আহতদের প্রথমে বাহুবল ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই একটি অবৈধ মাটি উত্তোলনকারী চক্র সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল বাজার থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন আটকে দেয়,এ সময় অতি উৎসাহী একটি কুচক্রী মহল ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ঐ চক্রটি শ্রমিকদের নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান,এঘটনার খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শান্তনা দিয়ে অবরোধ তোলে দেয়া হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামুন পরিবহনের একটি বাস সিএনজিকে চাপা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এসময় পিছনে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি থাকায় একটি মহল সিএনজি শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে পুলিশের গাড়িই  চাপা দিছে বলে প্রচার করে।

 1,220 total views

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 36
    Shares
error: Content is protected !!