জুড়ীতে অস্তিত্ব সংকটে কিন্ডারগার্টেন স্কুল

সিলেট বিডি নিউজ
প্রকাশিত ১, মার্চ, ২০২১, সোমবার
জুড়ীতে অস্তিত্ব সংকটে কিন্ডারগার্টেন স্কুল

মনিরুল ইসলাম: করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিশ্ব অর্থনীতি যেমন থমকে গেছে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের মানসিক বিকাশ। সেই সাথে অস্তিত্ব সংকটে কিন্ডারগার্টেন স্কুলসমূহ। করোনা ভাইরাসের সংকটে দীর্ঘ ১১ মাস যাবত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত জুড়ীতেও সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উপজেলার ৩৩ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাতৃছায়া শিশু শিক্ষা একাডেমী নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভালো ভাবেই চলছিল।কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর অর্থসংকটে অবশেষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেল।

দীর্ঘ প্রায় এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে অস্তিত্ব সংকটের পাশাপাশি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ইতিমধ্যেই পেশা বদল করে অন্য পেশা চলে গেছেন।
উপজেলার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক ছিলেন সাদিকুর রহমান।সবসময় নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তিনি এখন পেশা বদল করে ইতিমধ্যে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন।সাদিকুর রহমানের মতো অনেকেই এই সংকট মুহূর্তকালের শিক্ষকতার মত মহান পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। উপজেলার ৩৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩২০ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের মত শিক্ষক জীবনের তাগিদে এখন পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে গেছে।

করোনাকালীন সময়ে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে সরকারের সহযোগিতা পেলে ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা পাননি কোনো সহযোগিতা।দেশের কিন্ডারগার্টেন স্কুল গুলোর শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় দেশের সংকটময় মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই মহামারিতে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না, এখনও নেই।এই সংকটময় মুহূর্তে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক ও উদ্যোক্তারা রীতিমতো অর্থের সাথে যুদ্ধ করে মরার মত বেঁচে আছে।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জুড়ী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তারা মিয়া বলেন, সারাদেশে করোনা ভাইরাসের মধ্যে সবই চলছে, বন্ধ শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অর্থসংকটে উপজেলার অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে যা সত্যিই দুঃখজনক।আশা করছি শেষ পর্যায়ে হলেও সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।

উপজেলা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন লিটন বলেন, আমাদের দুরবস্থার কথা বলে আর লাভ নেই।আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ যেন নেই।দীর্ঘ এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মানবতার জীবনযাপন করছেন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ এক বছরের স্কুল ভবনের ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন, ড্রাইভার ও কর্মচারীদের বেতন না দিতে পেরে এখন প্রায় বন্ধের পথে।

 136 total views

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 40
    Shares
error: Content is protected !!